বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
নাশকতার দুই মামলায় হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হককে আবারও সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী মামুনুলকে পল্টন থানার মামলায় চার দিন এবং মতিঝিল থানার মামলায় তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।
আজ মোহাম্মদপুর থানার নাশকতার মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় ২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় মতিঝিল থানার মামলা ও চলতি বছরের মার্চে বায়তুল মোকারমে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দশ দিন করে মোট বিশ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে পল্টন থানার মামলায় চার দিন ও মতিঝিল থানার মামলায় তিন দিন করে মোট ৭ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে ১৯ এপ্রিল ২০২০ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল হক।
শুনানি শেষে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম সেদিন তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ২০১৩ সালের মতিঝিল থানার মামলায় মামুনুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করেন। অপরদিকে, গত ২৬ মার্চ, বায়তুল মোকাররমে নাশকতার ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় মামুনুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
মামুনুল হকের আইনজীবী জয়নাল আবেদনী মেসবাহ বলেন, স্বাধীনতার সূর্বণ জয়ন্তিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সহিংসতায় দেশে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় সারাদেশে প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে। মামুনুলকে এসব ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে মনে করে আইনশৃংখলা বাহিনী।
১৮ এপ্রিল দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এ অবরোধ কর্মসূচির নামে লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও আরামবাগসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহন ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হেফাজতের কর্মীরা। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়।